(প্রিয়.কম) তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য আলাদা ‘ফরম-সি (আইসিটি)’ চালুসহ এ খাতের বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্চ পলিসি বিভাগ ২ এপ্রিল চারটি পৃথক সার্কুলার জারি করেছে। অন্য তিনটি সার্কুলার হলো, এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) একাউন্টের রিটেনশন কোটা ৭০ শতাংশে উন্নীত করা, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাইরে অর্থ প্রেরণের সীমা ৩০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভার্চুয়াল অর্থ প্রেরণের বিষয়টি সহজীকরণ করা।
বিদেশে আয়কৃত অর্থ তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনতে হলে তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘সি-ফর্ম’ পূরণ করতে হয়। এতে করে অনেক ক্ষেত্রে আইটি বা আইটিইএস শিল্প খাতের ক্ষুদ্র রফতানিকারকদের আয় হিসাবের বাইরেই থেকে যায়। তাছাড়া সি-ফর্ম পূরণের বর্তমান ব্যবস্থাটি জটিল হওয়ায় রফতানিকারকেরা খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে, আইটি বা আইটিইএস শিল্প খাতের মাধ্যমে আয়কৃত অর্থের হিসাব সঠিকভাবে পাওয়া যায় না।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য আলাদা ‘ফরম-সি (আইসিটি)’ চালু হওয়ায় রফতানিকারকদের জটিলতা যেমন কমবে তেমনি এ খাতের প্রকৃত আয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ইআরকিউ একাউন্টে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ অর্থ রাখার বিধান ছিল। নতুন সার্কুলার অনুযায়ী ৭০ শতাংশ অর্থ ইআরকিউ একাউন্টে রাখা যাবে।
আইসিটি ফার্মের জন্য ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ অথবা ওয়্যার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বাইরে অর্থ পাঠানোর বর্তমান সীমা ২৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া এ ক্রেডিট কার্ড প্রতিবার রিফিলের সীমা ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ৬ হাজার মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ফ্রিল্যান্সার, মোবাইল অ্যাপ ডেভলপার ও ব্যক্তি-পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনার খরচ (বছরে ৩০০ মার্কিন ডলার) বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে ইস্যুকৃত ভার্চুয়াল কার্ডটির বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা ছিল। জারিকৃত সার্কুলারের মাধ্যমে কার্ডটি ডেবিট, ক্রেডিট অথবা প্রি-পেইড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে ।
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে এলআইসিটি প্রকল্প এবং বেসিস, বাক্য এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের এ দাবি পূরণ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশ ব্যাংকের এ চারটি সার্কুলারকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি খাতে রফতানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। আমরা বাংলাদেশ আইসিটি পরিবার মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সার্কুলার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণকে তরান্বিত করবে।’
প্রিয় সংবাদ/আশরাফ