দেশব্যাপী শিশুদের সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো ‘হেল্পলাইন ১০৯৮’ চালু করা হয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো শিশু কোনো ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণের শিকার হলে বিনা মূল্যে ১০৯৮ হেল্পলাইনে ফোন করে জানাতে পারবে। আজ বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ হেল্পলাইন সেবা চালু করেন।
হেল্পলাইন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিপ্লব ঘটেছে। শিশুদের আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের অধিকার সুরক্ষায় শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আজ আরও একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক যোগ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে এ সেবার মাধ্যমে শিশুরা দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের উদ্বেগ জানাতে পারবে। এতে প্রত্যেক শিশু তাদের প্রয়োজনীয় যত্ন ও সমর্থন পাবে।’ বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সারা বর্দাস এডি বলেন, ‘দেশে শিশুদের সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইউনিসেফ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশের শিশুরা কোনো রকম বৈষম্য ও সহিংসতা ছাড়াই তাদের অধিকার ভোগ করবে এবং উন্নতি করবে—এমনটাই আশা করি।’

শিশু আইন ২০১৩–এর ধারা ৯০ অনুযায়ী, শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী সহিংসতায় সবচেয়ে অরক্ষিত সুবিধাবঞ্চিত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় বাংলাদেশে শিশু সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে পরীক্ষামূলকভাবে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮ চালু রেখেছে।

শিশু হেল্পলাইন উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী, সমাজকল্যাণ সচিব মো. জিল্লার রহমান, গ্রামীণ ফোনের প্রধান নির্বাহী মো. ইয়াসির আজমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।